বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমানে সরকারি শিক্ষকদের মতো কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ ভিত্তিক ভাতা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান না। তাই তারা নিয়মিত আন্দোলন ও সমাবেশের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন।
গত ১৩ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। মহাসমাবেশের পর জোটটি একটি বিস্তারিত সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
প্রস্তাব পাওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনটি অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে—
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর
এই তিন অধিদপ্তর তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও প্রয়োজনীয় যুক্তি-তথ্য পাঠিয়েছে। এগুলো একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করা হয়।
একজন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা জানান, ফাইলটি অনুমোদনের জন্য একাধিক ধাপ পেরোতে হয়—
- প্রথমে বেসরকারি মাধ্যমিক শাখা প্রস্তাবে মতামত দেয়।
- এরপর ফাইলটি যায় উপসচিবের দপ্তরে।
- উপসচিবের পর পর্যায়ক্রমে যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব মতামত দেন।
- সবশেষে সচিব অনুমোদন দিলে ফাইলটি পাঠানো হয় শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তরে।
- শিক্ষা উপদেষ্টা সম্মতি দিলে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সূত্র মতে, গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফাইলটি উত্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি অনুমোদনের ধাপে রয়েছে।
- মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া প্রদান করতে হবে।
- চিকিৎসা ভাতাও শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে।
- ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু হবে।
শিক্ষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা অনেকদিন ধরে দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু সরকার এখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই এবার সর্বশেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
- সময়সীমা: ১০ অক্টোবর পর্যন্ত
- কর্মসূচি: ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলন
এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে—
- প্রস্তাবগুলো পৃথকভাবে দুই বিভাগ (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
- অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যয়ভার বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
- অনুমোদন পেলে অর্থ বিভাগের প্রবিধান শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
- ২৯ সেপ্টেম্বর – অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফাইল অনুমোদনের ধাপ শেষ হবে।
- অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ: প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।
- অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ: অর্থ মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করবে (ব্যয় নির্ধারণ, বাজেট প্রাপ্যতা যাচাই)।
- অক্টোবরের শেষ ভাগ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব।
তবে যদি অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং ১০ অক্টোবরের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে শিক্ষকদের ঘোষিত আন্দোলন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সারসংক্ষেপ
- দাবি: বাড়ি ভাড়া ২০% + চিকিৎসা ভাতা শতকরা হারে।
- বর্তমান অবস্থা: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ফাইল উত্থাপন করেছে, এখন অনুমোদন প্রক্রিয়ায়।
- পরবর্তী ধাপ: অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো → অনুমোদন → প্রজ্ঞাপন।
- ঝুঁকি: ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষকরা লাগাতার আন্দোলনে নামবেন।
Post Views: 1,451
Leave a Reply