স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ কখন থেকে শুরু হবে—সেটি নিয়ে তারা কেউই নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদ্রাসার শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হলেও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিষয়টি এখনো স্থগিত রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি আদালতের রুল নিষ্পত্তি ও সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “এই বিষয়গুলো নিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য আরও কিছু সময় লাগবে। তবে শিক্ষকদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই, আমরা দ্রুতই বদলি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বদ্ধপরিকর।”
অন্যদিকে মাউশির মাধ্যমিক শাখার এক কর্মকর্তা জানান, মাদ্রাসার শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হলেও তাদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “আমরা একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছি, কিন্তু মন্ত্রণালয় এখনো অনুমোদন দেয়নি। মাদ্রাসা খাত তো কোনো সফটওয়্যারই তৈরি করেনি। ফলে বিষয়টি হয়তো শিক্ষকদের আশ্বস্ত রাখার কৌশল হিসেবেই করা হচ্ছে। যদি অনুমোদন পাওয়া যেত, তবে অনেক আগেই তথ্য সংগ্রহ শুরু করা যেত।”
সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়ায় শিক্ষকতার মানোন্নয়নে বাধা তৈরি হচ্ছে। এজন্য সরকার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলির সুযোগ চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক মহল অভিযোগ করেছেন, এই বিলম্ব আসলে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির ফল। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত সফটওয়্যার অনুমোদন দিয়ে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হোক এবং বদলি কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালু করা হোক।
Leave a Reply