বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ন্যায্য ভাতা, ভাড়াভাতা বৃদ্ধি এবং বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ দাবিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
গতকাল দিনভর শিক্ষক প্রতিনিধিরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎ ও আলোচনায় অংশ নেন। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান গতি এসেছে।
মাননীয় শিক্ষা সচিব এবং উপসচিব মহোদয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০% বাড়িভাড়া এবং বৈষম্য নিরসনের বিষয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সরকার এ দাবিগুলোকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
ইতিমধ্যেই কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। অন্যদিকে, স্কুল-কলেজের ফাইল বর্তমানে শিক্ষা উপদেষ্টার টেবিলে রয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষে তিনটি ফাইল একসাথে শিক্ষা উপদেষ্টা হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখায় পাঠানো হবে।
এই প্রক্রিয়ায় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষকদের ফাইল একসাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত হবে। এর ফলে সমন্বিতভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো) দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিগুলোকে সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের ধারাবাহিক চাপ, দৌড়ঝাঁপ এবং দরকষাকষির ফলেই আলোচনার টেবিলে এ বিষয়গুলো আজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
শিক্ষক-কর্মচারীরা আশা করছেন, দ্রুত অনুমোদন মিললে তাঁরা বাড়িভাড়া ভাতায় সমতা ফিরে পাবেন এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটবে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষকরা আর্থিক স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের আস্থা ও কর্মস্পৃহা বাড়বে।
এই প্রক্রিয়া শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসাথে তিনটি ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মানেই হলো, সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় এসেছে।
Leave a Reply