বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নানা তৎপরতা চলছে। বর্তমানে তারা মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে শিক্ষকরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের এ চাপের মুখে পূর্বে পাঠানো প্রস্তাবটি বাতিল করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নয়, বরং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব তৈরি করবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন ফাইল প্রস্তুত করে তা অনুমোদনের জন্য উপসচিব থেকে শুরু করে যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং উপদেষ্টার পর্যায়ে উত্থাপন করা হবে। এটি করতে আরও দুই তিনদিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সেটি প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে চুড়ান্ত প্রস্তাব পাশ করানোর জন্য। মনে রাখবেন অর্থ চুড়ান্ত অনুমোদনই আমাদের প্রাপ্তির সর্বশেষ ধাপ।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধির যে ফাইলটি আগে তোলা হয়েছিল, সেটি বাতিল করা হচ্ছে। কারণ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি নতুন করে শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার ফাইল পাঠিয়েছে। ফলে সবগুলো প্রস্তাব একীভূত করে নতুন ফাইল তৈরি করতে হচ্ছে। কত শতাংশ হারে বাড়িভাড়া প্রস্তাব করা হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অধিদপ্তরগুলো ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী ফাইল তৈরি করবো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সচিব এবং উপদেষ্টা। এই বিষয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যে বিষয়গুলো প্রচার পাচ্ছে বিশেষ করে ২০ থেকে ১০ গ্রেড পর্যন্ত ২০% এবং ১ থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ২০% এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুরোপুরি গুজব এই সকল গুজবে কান না দিয়ে আমরা আমাদের সকলে আমাদের নিজেদের প্রস্তুত থাকতে হবে ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনার জন্য। এই ধরনের গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো আমাদের বিভ্রান্ত করা।
অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা একাধিকবার ঢাকায় সমাবেশও করেছেন। সর্বশেষ শিক্ষক সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে যদি তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামবেন তারা। এর ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নতুন করে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
Leave a Reply