বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে ফাইল তুলেছে। বর্তমানে উক্ত ফাইলটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমানের কাছে রয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যে তথ্যবিবরণী জমা দিয়েছিল, সেটি আমরা ডকেট করেছি। এরপর ফাইলটি তোলা হয়েছে। ফাইলটি প্রথমে উপসচিবের দপ্তরে যায়, সেখান থেকে যুগ্মসচিবের দপ্তর অতিক্রম করে এখন অতিরিক্ত সচিবের দপ্তরে রয়েছে।”
অতিরিক্ত সচিবের পরবর্তী কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত সচিবের পর ফাইলটি সচিবের দপ্তরে যাবে। সচিব যদি মনে করেন কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন প্রয়োজন, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। তবে যদি সংশোধনের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সচিবের দপ্তর থেকে সরাসরি এটি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে যাবে। শিক্ষা উপদেষ্টা অনুমোদন দিলে শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে কতদিন সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কিছুটা সময় অবশ্যই লাগবে। তবে কতদিন লাগবে, তা মূলত সচিব ও শিক্ষা উপদেষ্টার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।”
এর আগে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে যদি এ দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তবে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসমাবেশ থেকে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। উক্ত প্রস্তাবের আলোকে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। সেই প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্যবিবরণীকে এখন প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও মাদ্রাসা-কারিগরি বিভাগ। প্রস্তাবগুলো পৃথক আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply