মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এর মাধ্যমে প্রদান করছে সরকার। তবে তথ্যগত নানা ত্রুটির কারণে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতি নিরসনের জন্য মাউশি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে এবং কীভাবে এ তথ্য হালনাগাদ করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাও প্রকাশ করেছে। আগামীকাল রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য সংশোধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
সম্প্রতি মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা EFT সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেরণ শুরু হয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাইয়ের সময় অনেক শিক্ষকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ব্যাংকের রাউটিং নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল পাওয়া যায়। আবার অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বা তাদের চাকরির অবস্থায় পরিবর্তন ঘটেছে। কারও তথ্য বরখাস্ত, পদত্যাগ, অস্থিত্ব নেই বা স্থগিত অবস্থায় প্রদর্শিত হওয়ায় EFT-এর মাধ্যমে তাদের বেতন প্রদান সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য ভুল ছিল তাদের EFT-র তথ্য সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মাউশি সংযুক্ত ম্যানুয়াল অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করে পাঠানোর জন্য সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে।
তথ্য সংশোধনের ধাপসমূহ
১. প্রতিষ্ঠান প্রধান তাঁর প্রতিষ্ঠানের এমপিও সম্পর্কিত কাজের জন্য ব্যবহৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে মাউশির EMIS সিস্টেমের MPO EFT মডিউলে লগ-ইন করবেন।
২. Data Update অপশনে প্রবেশ করলে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য দেখা যাবে। যাদের তথ্য ভুল তাদের নামের পাশে একটি বিশেষ চিহ্ন থাকবে।
৩. ওই চিহ্নে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীর তথ্য সংশোধনের জন্য একটি পেজ ওপেন হবে।
৪. তথ্য সংশোধনের পর আপডেট অপশনে ক্লিক করতে হবে এবং তা পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রেরণ করতে হবে।
৫. সংশোধিত তথ্যের হার্ডকপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (স্কুলের ক্ষেত্রে) বা আঞ্চলিক পরিচালক (কলেজের ক্ষেত্রে) যাচাই শেষে তথ্য মাউশি অধিদপ্তরে পাঠাবেন। মাউশি থেকে আইবাস সিস্টেমে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তথ্যের সঠিকতা প্রমাণিত হলে পরবর্তী মাস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত অর্থ EFT-এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে যে বকেয়া জমে আছে তাও প্রদান করা হবে।
এছাড়া যারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছেন বা অন্য পদে যোগ দিয়েছেন, তাদের তথ্য Transfer অপশনের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। একইভাবে, যেসব শিক্ষকের অবস্থা পূর্বে বরখাস্ত, পদত্যাগ, স্থগিত বা অস্থিত্ব নেই হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল, তাদের তথ্যও প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে সংশোধন করে প্রেরণ করতে হবে।
যেসব শিক্ষক ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে EFT-এর ভুল তথ্যের কারণে এমপিওভুক্ত অর্থ পাননি এবং ইতোমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা সরাসরি হার্ডকপি আকারে EMIS সেলে তথ্য জমা দিতে পারবেন।
কারিগরি সহায়তা
যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে বিস্তারিত লিখে ই-মেইল করতে হবে— teacher.mpo@gmail.com ঠিকানায়। পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রোগ্রামারের কাছে আবেদন করে নতুন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, মাউশি জানিয়েছে যে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঠিক তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ করার মাধ্যমে তারা শিগগিরই বকেয়া বেতনসহ নিয়মিত EFT-এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত ভাতা পেতে শুরু করবেন।
Leave a Reply