এই দেশে সকল পেশাতেই কম বেশি অনেক বৈষম্য বিদ্যমান তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সেই বৈষম্যগুলো অন্যান্য পেশায় যেভাবে নিরসন হয় সেই একই ধারাবাহিকতায় কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় হয় না। কেন জানি না আমাদের অন্যান্য অনেক পেশার মানুষই তারা তাদের প্রতিদ্বন্দী ভাবে। আমরা আমাদের বৈষম্যের নিরসনের কথা বললেই নানামুখী ষড়যন্ত্র নানামুখী অজুহাত নানান টালবাহানা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন? আমাদের পিছনে রাষ্ট্র যে ব্যয় করে এটার কি কোন মুল্য আমরা দেই না। এই ব্যয় কি একেবারেই অর্থহীন ব্যয়। যে দেশের শতকরা ৯৭% শিক্ষার্থী এই এমপিওভূক্ত স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। অথচ সেই দেশের এমপিওভুক্ত পেশায় নিয়োজিত একজন স্কুল শিক্ষকের মাসিক বেতন সরকারী একজন পিয়নের চেয়ে কম। এটা কি লজ্জার না গর্বের। একক পেশা হিসাবে এই এমপিওভুক্ত পেশার চেয়ে বড় পেশাজীবি কিন্তু এই দেশে আর আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা প্রদানের দাবি তুলেছেন। দাবি আদায়ে তাঁরা আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এত অল্প সময়ে বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায়ও এমন আভাস পাওয়া গেছে। তিন বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করবে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে এই প্রক্রিয়া খুব অল্প সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অধিদপ্তরগুলো থেকে আর্থিক ব্যয়ের বিবরণী পাওয়া গেছে। দ্রুতই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব অনুমোদন করবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা এক মাস আগে অর্থ উপদেষ্টাকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কতটা সময় লাগবে তা বলা কঠিন।
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রস্তাব এলে প্রথমে যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ সরকার বহন করতে পারবে কি না, অন্য কোনো খাত থেকে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে কি না কিংবা এ কারণে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে কি না—এসব দিক বিবেচনা করেই অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতার প্রস্তাব এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসেনি। প্রস্তাব পাওয়ার পরই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে কিছুটা সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসমাবেশ থেকে শিক্ষা উপদেষ্টাকে বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়। সেই প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় জোট। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই তথ্য-উপাত্তকে ভিত্তি করে এখন প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, প্রস্তাবগুলো পৃথক আকারে পাঠানো হবে।
পরিশেষে যে কথাটি বলব আজ আমরা অজুহাত খুঁঁজছেন যে কিভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই ন্যর্য দাবী বানচাল করা যায় বা শেষ মেষ যদি দিতেই হয় তাহলে নামকাস্তে যতটুকু দেওয়া যায় দিয়ে দেওয়া। একবার নিজেদের বা অপরাপর অন্যান্য পেশাজীবিদের বিভিন্ন দাবীর ব্যাপারে আপনারা কি একই প্রকার মতামত পোষণ করেন কিনা। অন্যান্যদের ব্যাপারেতো আপনারা এত সময় অপচয় করেন না। তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় কেন এত অজুহাত।
ভাল আপনারা অজুহাত খুজেন সমাধানের রাস্তায় না গিয়ে। আর আমরা সমাধান খুঁজি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনের মাঠে দেখা যাক কে সফল হয় আর কে ………
Leave a Reply