বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া প্রদানের জন্য কত টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে— সে সম্পর্কিত একটি বিশদ আর্থিক তথ্য বিবরণী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠিয়েছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে. এম. শফিকুল ইসলাম। তিনি বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পাঠানো এক চিঠির প্রেক্ষিতে এই আর্থিক হিসাব-নিকাশ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় চাইলে এ তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ হারে প্রদানের জন্য কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে— তা বিস্তারিতভাবে হিসাব করা হয়েছে। এই হিসাবপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ছক অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া প্রদান করতে বছরে অতিরিক্ত ৩৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। মাসিক হিসেবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আবার ১০ শতাংশ হারে ভাড়া দিতে হলে বছরে প্রয়োজন হবে ৪২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ১৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া প্রদানের জন্য বছরে দরকার হবে ৬০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মাসিক হিসেবে প্রায় ৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির আলোকে যদি ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া প্রদান করা হয়, তবে বছরে অতিরিক্ত ৯০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। মাসিক হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এভাবে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের তৈরি করা আর্থিক বিবরণীতে চারটি ভিন্ন হারের প্রস্তাবনা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

Leave a Reply