এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন যেভাবে রাজনীতির চিত্র পাল্টে দিচ্ছে, তার ঢেউ এবার এসে পৌঁছেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ পূর্ব তিমুরে। রাজধানী দিলি এখন উত্তপ্ত বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ। হাজারো তরুণ, মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সংসদ সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিলি। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। একটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশের দিকে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে, ফলে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারীর বেশিরভাগই তরুণ শিক্ষার্থী। তাদের স্পষ্ট দাবি— সংসদের ৬৫ সদস্যের জন্য টয়োটা প্রাডো এসইউভি কেনার পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ধরা ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল— ‘চোরদের থামাও।’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ৩৪ বছর বয়সী ডমিঙ্গোস দে আন্দ্রাদে বলেন,
“আমরা চাই সংসদ সভাপতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। না হলে আন্দোলন চলতেই থাকবে।”
এর আগের দিনও (সোমবার) একই দাবিতে দিলি শহরজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এর পর কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংসদে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাতিলের প্রস্তাব তোলার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সমালোচনার জায়গা হলো— বাজেট অনুমোদনের সময় এই অর্থ বরাদ্দে তারাই সমর্থন দিয়েছিল।
পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোরতা তরুণ বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,
“সরকার বা সংসদ ভুল করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নাগরিকদের অধিকার। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া পূর্ব তিমুর আজও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ। তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশটিতে বেকারত্ব, অপুষ্টি ও বৈষম্য এখনো গুরুতর সমস্যা। এমন প্রেক্ষাপটে এমপিদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে এক অযৌক্তিক বিলাসিতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু গাড়ি কেনার বিরুদ্ধে নয়; বরং রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসী জীবনযাপন এবং তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। অনেকের মতে, পার্শ্ববর্তী ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি এবার দেখা যাচ্ছে পূর্ব তিমুরের রাস্তায়।
সুত্র: কালবেলা
Leave a Reply