জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় এর ভিত্তিতে নির্বাচনসহ নানা দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করাকে স্ববিরোধিতা বলছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি দল ইতোমধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি কীভাবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই আলোচনার মধ্যেই রাস্তায় কর্মসূচি দেওয়া স্ববিরোধী মনে হতে পারে। তবে যেকোনো দলের কর্মসূচি দেওয়ার অধিকার আছে, সেটিও গণতান্ত্রিক বাস্তবতা।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তোলা হয়েছে। তবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় পিআর পদ্ধতির প্রসঙ্গ কখনো আসেনি। কোনো দল চাইলে তাদের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে, কিন্তু জনগণের নামে একক আদর্শ বা দাবি চাপিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে বিএনপি কখনো ছিল না। অতীতে আইন না থাকলেও এখন আইন রয়েছে। তাই কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অবশ্যই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। ঢালাওভাবে দল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হবে কি না এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা জনগণই মূল্যায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য কারা—অন্তবর্তী সরকার, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, নাকি বিএনপি—তা স্পষ্ট নয়। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার কোনো কৌশল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে যেসব দল কর্মসূচি দিয়েছে, তাদের সে অধিকার আছে। বিএনপি রাজনৈতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই দেবে।
Leave a Reply