এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। সমাবেশে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর উপস্থিতি দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সেখানে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে ন্যায়সঙ্গত দাবি ও আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলে সরকারপক্ষ আলোচনার প্রস্তাব প্রদান করে।
পরবর্তীতে ওই আলোচনার প্রেক্ষিতে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে ঘোষণা দেন যে, যদি সরকার প্রতিশ্রুত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেয়, তবে ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ঘোষণার ফলে শিক্ষা অঙ্গনে এক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে আশার খবর হলো—এরই মধ্যে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের বিভিন্ন নেতা সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তাঁরা জানতে পেরেছেন যে সরকার কিছু দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও সবকিছু এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি, তথাপি আলোচনার অগ্রগতি অনেকাংশে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে সরকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না করার জন্য। সেই আহ্বান এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
নিচে সেই নতুন সিদ্ধান্ত হুবহু তুলে ধরা হলো—
গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য নিরসন, সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা ও জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীর মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই দিন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট নেতৃবৃন্দের সাথে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টাসহ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আলোচনায় সর্বশেষে জোট নেতৃবৃন্দ বাড়ি ভাড়া প্রতি মাসে বেতন স্কেলের কমপক্ষে ২০% কিন্তু ৩০০০ টাকার নীচে নয় এবং ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব করেন। মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা প্রস্তাব অনুসারে একটি হিসাব প্রস্তুত করে দিতে বলেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। জোট নেতৃবৃন্দ উনার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন স্কেলের কমপক্ষে ২০% কিন্তু ৩০০০ টাকার নীচে নয় এবং ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে বা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থ দিবস ও ১৫, ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষনা করে। পরবর্তীতে ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়। গত ২০ আগস্ট জোটের পক্ষ থেকে ২০% বড়ি ভাড়ার হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরসমূহে হিসাব চাওয়া হয়েছে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিসাব জমা দিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর জোট নেতৃবৃন্দ মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উনারা আশ্বস্ত করেন বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির কাজ চলমান এক মাসের মধ্যেই হয়ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ করেন। যেহেতু বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির কাজ চলমান তাই মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা বিভাগের সচিবগণের এর প্রতি সম্মান দেখিয়ে জোট নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থ দিবস ও ১৫, ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি স্থগিত করা হলো তবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালিত হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও ব্যপক প্রচারের অনুরোধ রইল।
যদি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী ১২ অক্টোবর এ সময়ের মধ্যে যদি আমাদের তথা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দাবীকৃত বিষয়গুলো মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে পরবর্তী যে কর্মসূচী ঘোষণা রয়েছে তা সর্বাত্নক পালন করার জন্য সারাদেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা এক্যবদ্ধ থাকিবে বলে জোটের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
Leave a Reply