বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আগস্ট মাসের বেতন আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বেতন-ভাতার অনুমোদন দিয়েছে দুই মন্ত্রণালয়। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে বেতন-ভাতার হিসেব আইবাসে পাঠানো হয়েছে। আইবাস থেকে আজ রবিবার হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হবে। বেলা ১১টার মধ্যে আইবাসে পাঠানো হলে আজই ব্যাংকে টাকা জমা হবে। তবে দুপুরের পরে আইবাসে পাঠানো হলে আগামীকাল সোমবার টাকা ব্যাংকে জমা হবে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা পাবেন।’
গত ২৮ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন এমপিওভুক্ত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ শিক্ষক-কর্মচারীর আগস্ট মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর মধ্যে স্কুলের ২ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ জন ও কলেজের ৮৬ হাজার ৪৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিমাণ অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শিক্ষক-কর্মচারীদেএ বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ডিজিটাল বিল সাবমিট করার ব্যাবস্থা গ্রহণ করার পরও যদি বেতন পেতে পেতে মাসের ৯ তারিখ বা ১০ তারিখ হয়ে যায় তাহলে কিন্তু মাউশি বা বেতন প্রদানকারী সংস্থার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়। এতদিন বলা হচ্ছিল যে সকল কাজ ইএমআইএস সেলকেই করতে হয় বিধায় এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন সঠিক সময়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। কিন্তু এখনতো সেই যুক্তি দেওয়ার আর সুযোগ নাই। আসলে অজুহাতের শক্তি সকল সময় শক্তিশালী হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করেছে, যার ফলে এখন বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে।
এর পূর্বে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যেভাবে ইএফটির আওতাভুক্ত হয়ে বেতন পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখনও ইএফটি বলতে যে ধরনের সুবিধা বোঝায় তা কিন্তু মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদ্বিচ্ছার অভাবে তা এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখানেও রয়েছে হতাশার বিষয় কেননা মাউশি থেকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটির জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না কারণ তাদের বেতন হয় সরাসরি রাজস্ব খাত হতে। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন হয় অধিদপ্তরের মাধ্যমে এবং বাজেটের বরাদ্দ থেকে বিধায় প্রতিমাসে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় যার কারণে কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়।
বে-সরকারী এমমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যারা কাজ করে তারা সবাই মিথ্যুক ও নির্লজ্জ। কারন প্রতি সপ্তাকে তারা নির্লজ্জভাবে মিথ্যা কথা বলে। তাদের লজ্জা শরম বলে কিছুই নেই–