বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বহুদিন ধরেই বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার অস্বাভাবিক কম পরিমাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যহীন এই ভাতাগুলো শিক্ষক সমাজের জন্য ছিল এক ধরনের বঞ্চনা। তবে সম্প্রতি সম্প্রতি গত ১৩ আগষ্টে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতৃবৃন্দ কে বলেন আপনাদের বাড়িভাড়া ১০০০টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টার এই প্রস্তাব তাৎক্ষনিক ভাবে মেনে না নিলে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন তাহলে আপনাদের যৌক্তিক ও সরকারের সামথ্যমতে কতটুকু এই ভাতাগুলোর বৃদ্ধি চান। সেই প্রশ্নের মুখে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা চিকিৎসাভাতা আপনি যেটা বলেছেন সেটা ঠিক আছে কিন্তু আমরা বাড়িভাড়া শতকরা আকারে নূর্ণ্যতম ২০% এবং নূর্ণ্যতম ৩০০০টাকার দাবি করেন। শিক্ষকের এই প্রস্তাব শুনে শিক্ষা উপদেষ্টা তাৎক্ষণিক বলেন ঠিক আছে আপনাদের এই দাবীর সাথে আমরা নীতিগত একমত এবং মৌখিক ভাবে শিক্ষকদের এই দাবী মেনে নেন। শিক্ষকদের আশস্ত করে বলেন এখন তাহলে আপনাদের এই প্রস্তাবকৃত ভাতা বৃদ্ধি করতে কি পরিমাণ টাকা লাগবে তার একটি হিসাব দ্রুত আমাদের নিকট প্রেরণ করুন আমরাও একটা হিসাব করে সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে প্রেরণ করব।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রতিনিধিগণ কিন্তু দ্রুত গত আগষ্ট মাসের ২০ তারিখ কি পরিমাণ টাকা লাগবে তার একটি সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। সেই মতে কিন্তু এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পালা সেই হিসাব চুড়ান্তভাবে নীরিক্ষা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা। কিন্তু দুংখের বিষয় হলেও সত্যি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু আমলা এই বিষয়টি নিয়ে অযথা সময়ক্ষেপন ও গড়িমসি শুরু করেছে। কেন বলছি গড়িমসি ও সময়ক্ষেপন ভেবে দেখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আজ অবধি কেবল মাত্র শুধু মাউশির নিকট হিসাব চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছে অন্য কোন অধিদপ্তর অথ্যাৎ কারিগরি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরে কোন চিঠি প্রেরণ করেনি। উল্টো কিছু কিছু সচিব আমলারা ইতিমধ্যে মিডিয়াতে বলা শুরু করেছ বিভ্রান্তিমুলক তথ্য যে, বর্তমান বছরে এটা কোন মতেই সম্ভব নয়, এই বছরের বরাদ্দ ইতিমধ্যে শেষ নানা ধরনের কথাবার্তা। আমি পরিস্কার করে একটি বিষয় বলি বিষয়টি একটু ভেবে দেখেন তো অর্থ বছরের কেবলমাত্র গত হয়েছে দুই মাস এখনই কি করে বাজেটের বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়। কারণ বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টার কথা মতো এমনিতেই আমাদের এই ভাতা গুলো বৃদ্ধি পাওয়ার কথা এবং সেই মতে চলমান বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাহলে কেন বাজেটের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাবে। ফাজলামি করার একটা মাত্রা থাকে। শিক্ষকদের বেলায় দুই মাস যেতে না যেতে বরাদ্দ শেষ হয়ে যায় তাই না। আর আপনাদের বেলায় বাজেটের বরাদ্দ অনন্তহীন তাইনা।
পরিস্কার ভাষায় একটি কথা বলতে চাই আমাদের স্বনামধন্য আমলাদের আর কোন অপচেষ্টা এই এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ কোনভাবেই মেনে নিবে না। অনেক আঘাত আমার সহ্য করেছি এবার প্রতিঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকেন। আমাদের দাবী নিয়ে যদি বিন্দু মাত্র অসহযোগীতামুলক আচরণ বা ষড়যন্ত্র করেন তাহলে কান খুলে শুনে রাখুন আগামীর কর্মসুচীতে সমগ্র এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হবে। আর এর জন্য দায়ী থাকবেন আমরানারা যারা রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্বে। শিক্ষা উপদেষ্টাতো মৌখিক ভাবে আমাদের দাবী মেনেই নিয়েছে এখন কাগজে কলমে বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের। তাহলে কেন এই ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে যে অযথা সময়ক্ষেপনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করেছন তা কিন্তু আমরা ভালভাবেই বুঝি। কেন বলছি সময়ক্ষেপন সেটা কিন্তু ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আমি কিন্তু ১৩ তারিখ যখন শুনলাম যে, শিক্ষকদের নিকট থেকে বৃদ্ধি কৃত টাকার হিসাব চেয়েছে তখনই বলেছিলাম এটা সময়ক্ষেপন ছাড়া আর কিছু না। তখনই বলেছিলাম যে কত টাকার প্রয়োজন তার হিসাব কিন্তু আমাদের থেকে সচিব আমলা ও মাউশির নিকট খুব ভাল আছে।
বিষয়টি ভাল করে ভেবে দেখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন আজ অবধি শুধুমাত্র মাউশির নিকট হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠালো অন্য অধিদপ্তর গুলোর নিকট এখনও হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠালো না কেন? চিঠিতো একসাথে তিন অধিদপ্তরেই পাঠানোর কথা। কেন এতদিনে শুধু মাত্র একটি অধিদপ্তরে চিঠি পাঠনো হলো এটা দ্বারা কি বুঝায়?
যাই হোক আর বেশি কিছু আজকে বলতে চাচ্ছিনা তবে একটি কথা না বলে পারছি না। তা হলো খুব সোজা ও সুন্দর ভাবে আমাদের এই দাবীও পুরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অনুরোধ করে বলছি আপনারা সকলে আপনাদের নিজস্ব জায়গায় থেকে ঘোষিত কর্মসুচী পালনে সচেষ্ট হবেন আশা রাখি। একটা কথা মনে রাখবেন আর তা হলো আমাদের পরিচয় আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন এখন আমাদের হাতে। তাই কে কোন দল করেন, কে কোন সংগঠনের সমর্থক, কে কমিটির নিয়োগপ্রাপ্ত আর কে এনটিআরসিএ এর নিয়োগ প্রাপ্ত সেই তর্ক বা যুদ্ধ আমরা ভবিষ্যতে করার সুযোগ পাব এখন সময় অধিকার আদায়ের। এখন বিভক্তির সময় নয়। তাই আসুন আমরা একজোট হয়ে আগামীর কর্মসুচীগুলো পালনে সচেষ্ট হই।
জয় আমাদের সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। বিজয় আমাদেরই হবে। সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাঠে নামতে পারি।
Leave a Reply