নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট। সম্প্রতি ড্রিম১১-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই (Board of Control for Cricket in India) প্রধান লিড স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে কঠোর ও সুস্পষ্ট শর্তাবলী ঘোষণা করেছে। বোর্ডের অভিমত, ভারতীয় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কোনো প্রকার বিতর্কিত, অনিরাপদ বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানকে স্পন্সরশিপের সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিসিসিআই জানিয়েছে, লিড স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে “এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট” বা আগ্রহের প্রমাণপত্র কিনতে হবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র। এ প্রমাণপত্র সংগ্রহের জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা, যা একবার পরিশোধ করলে আর ফেরতযোগ্য নয়।
বোর্ডের নতুন শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর গত তিন বছরের গড় বার্ষিক টার্নওভার বা নেটওর্থ ন্যূনতম ৩০০ কোটি রুপি হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীদের অবশ্যই “ফিট অ্যান্ড প্রপার পার্সন” হিসেবে যোগ্য হতে হবে। এ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে—অপরাধমূলক রায় না থাকা, নৈতিক বা আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা, দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হওয়া, ব্যাংকের উইলফুল ডিফল্টার তালিকায় না থাকা এবং সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য সুনাম থাকা।
এবারের নির্দেশিকায় বিসিসিআই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নিম্নলিখিত খাতভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই আবেদন করতে পারবে না:
অন্যদিকে, যেসব খাতে ইতোমধ্যেই স্পন্সরশিপ রয়েছে—যেমন ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, স্পোর্টসওয়্যার, নন-অ্যালকোহলিক কোল্ড ড্রিঙ্কস, ফ্যান, মিক্সার গ্রাইন্ডার, সেফটি লক ইত্যাদি—সেগুলোতেও নতুন করে বিড করা যাবে না। একই সঙ্গে বোর্ড স্পষ্ট করেছে, সারোগেট ব্র্যান্ড ব্যবহার করেও কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে না।
সবশেষে বিসিসিআই উল্লেখ করেছে, প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো পর্যায়ে এই প্রক্রিয়া বাতিল বা সংশোধনের অধিকার তাদের হাতে থাকবে। এসব কঠোর নিয়ম নিশ্চিত করবে যে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রধান স্পন্সর হবে স্বচ্ছ, আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও নৈতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান। তবে কঠিন শর্তাবলীর কারণে আসন্ন এশিয়া কাপ ২০২৫, যা শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে, সেখানে ভারতীয় দলের জার্সিতে নতুন স্পন্সরের নাম দেখা না-ও যেতে পারে।
Leave a Reply