নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিচ্ছে পে-স্কেল কমিশন
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত পে-স্কেল কমিশন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কমিশন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান, পেশাগত দায়িত্ব এবং ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারীর পিতা-মাতা এবং অনূর্ধ্ব চারজন সন্তানসহ ছয়জনের একটি পরিবারের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করার উপযোগী একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো গঠনই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে এমন একটি কাঠামো প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যাতে একজন কর্মচারী তাঁর পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহ করে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
এই প্রক্রিয়ায় কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিবেচনায় নিচ্ছে। যেমন—পিতা-মাতাসহ ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবারের মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয়, অনূর্ধ্ব দুই সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের আয়-ব্যয়ের সামর্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচনে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান এবং দেশের উপর বৈদেশিক সহায়তার নির্ভরতা হ্রাসের উপায়।
এছাড়া, জনপ্রশাসনে মেধাবী ও দক্ষ জনবল নিয়োগে আগ্রহ সৃষ্টি করা, বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও কর্মোদ্যোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকসেবা উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
এর আগে, গতকাল রোববার (২৭ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছে সরকার।
কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান, সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম।
কমিশনে অন্তর্ভুক্ত খণ্ডকালীন সদস্যরা হলেন—সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, সাবেক সচিব ড. জিশান আরা আরাফুন্নেসা, মেজর জেনারেল (অব.) এ আই এম মোস্তফা রেজা নূর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা মিস তহমিনা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ভূঁইয়া, বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।
এছাড়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সশস্ত্র বাহিনীর একজন প্রতিনিধি, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের দুটি শাখার অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের দুই কর্মকর্তা এই কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিশন অচিরেই পরিপূর্ণ কার্যক্রম শুরু করবে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যেই একটি বাস্তবভিত্তিক, টেকসই এবং সম্মানজনক নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো সরকারের কাছে সুপারিশ আকারে উপস্থাপন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply