বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি আগে থেকেই দেওয়া থাকলেও, এখন পর্যন্ত এ দুটি বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আসন্ন জুলাই মাস থেকে শুধুমাত্র তাদের মূল বেতনের পরিমাণই বাড়বে। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পূর্বের হারেই বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অভাবে সেটি বাস্তবায়নের দিকেই অগ্রসর হয়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, বর্তমানে সারা দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কর্মরত মোট ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৭ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখায়। এই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই মাসে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হবে এক হাজার ২৯ কোটি টাকা। তবে এই প্রস্তাবে কেবলমাত্র বাড়তি বেতনের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির কোনো তথ্য বা প্রস্তাব এতে যুক্ত করা হয়নি, যা বিষয়টির গুরুত্ব সত্ত্বেও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
এই বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য সেল (ইএমআইএস)-এর প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, “জুলাই মাসে শুধু বেতন বাড়ানো হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমার কাছে কোনো নির্দেশনা বা তথ্য নেই।” তিনি আরও বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবে এসব সংযোজন নেই, তাই শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্বের হারেই বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পেতে থাকবেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এই মাসে কেবল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি হয়নি। যদি বাড়ানো হতো, তাহলে তা অবশ্যই জুলাই মাসের বেতন কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকত। কিন্তু এবার তা হয়নি, অর্থাৎ বেতন বাড়লেও অন্যান্য সুবিধাদি অপরিবর্তিত থাকছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপ্রতুল সুবিধা শিক্ষক সমাজের মাঝে হতাশা তৈরি করতে পারে, যেহেতু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব ভাতা সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।
Leave a Reply