বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধি: বাড়ছে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ২০২৫ মাস থেকেই এই বর্ধিত বেতন কার্যকর হচ্ছে। বেতন বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত বেতনের সারসংক্ষেপ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রশাসন শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, স্কুল পর্যায়ে সবচেয়ে নিচের গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে যারা আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত, তাদের বেতন সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। যদিও বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এই পরিমাণ বৃদ্ধি তাদের সামগ্রিক আর্থিক দুরবস্থায় তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সূত্র জানায়, জুনিয়র পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক যারা সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন, তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন আরও বেশি পরিমাণে বাড়বে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ক্ষেত্রবিশেষে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের বেতন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়বে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ আরও বেশি—প্রায় ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।
এই বেতনবৃদ্ধির কারণে জুলাই মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে অতিরিক্ত ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ সংক্রান্ত বেতনের সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে মাউশির প্রশাসন শাখায় প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তিন লাখ ৭৮ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য জুন মাসে সরকারকে ৮৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসে এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, বেতন ও ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ১৪৫ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে এই মাসে।
মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, “জুলাই ২০২৫-এর প্রথম লটে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রায় এক হাজার ২৯ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। যেখানে জুন মাসের প্রথম লটে এই অঙ্ক ছিল ৮৮৪ কোটি টাকার মতো। অর্থাৎ, প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বেশি দেওয়া হচ্ছে এই মাসে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাসে সকল জনবলের ইনক্রিমেন্ট, প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং অনলাইনে অনুমোদিত বকেয়া প্রদানের কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়ছে। এছাড়া নতুন পে-স্কেলের তারতম্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছে।”
Leave a Reply