শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়েরকে প্রত্যাহার, উত্তাল সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) সিদ্দিক জুবায়েরকে অবশেষে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার, ২৩ জুলাই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে নতুন কোনো দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করা হয়নি।
এই প্রত্যাহারের পেছনে রয়েছে এক দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি উত্তাল ছাত্র আন্দোলন। গতকাল (২২ জুলাই), রাজধানীর সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষা উপদেষ্টা এবং সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়েরের পদত্যাগ। বিক্ষোভের কারণে সচিবালয়ের প্রবেশ ও বাহির পথগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন, যার ফলে সচিবালয়সংলগ্ন সড়কে যান চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি দল সচিবালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা সচিবালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন দপ্তরের পার্কিং এলাকায় অবস্থানরত গাড়িগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে প্রশাসনিক পরিবেশ চরমভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সচিবালয়ের ভেতর থেকে বের করে দেয়। এসময় সচিবালয় এলাকার সর্বত্র টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়েরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর ঠিক একদিন পর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
প্রসঙ্গত, সাবেক আমলা সিদ্দিক জুবায়ের ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর দুই বছরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। তাঁর নিয়োগ শুরু থেকেই নানা মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে।

Leave a Reply