1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

হায়রে সাধের ইএফটি- যে লাউ সেই কদু

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫৮ Time View
হায়রে সাধের ইএফটি- যে লাউ সেই কদু

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য গত ২০২৪ইং সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষক দিবসে বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা যখন ঘোষণা করলেন যে আগামী জানুয়ারী মাস হতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সেই ঘোষণা শুনে সাধারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মনের মধ্যে ধারণা হয়েছিল যে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার প্রবর্তন এই দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এক স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে। তাদের মনের মধ্যে এই ধারণার অবতারণা হয়েছিল যে, ইএফটির বাস্তবায়ন হলে মনে হয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন প্রদানের বৈষম্যের অবসান হতে চলেছে। বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টার যে আশার বাণী ঘোষিত করেছিল, তাতে বেতন ও ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, নির্ভুল এবং ভোগান্তিহীন। বিদায়ী উপদেষ্টার ঘোষণায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ এবং প্রশাসনের অনেকেই তখন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কারণ, এর মাধ্যমে চেকভিত্তিক বিল প্রক্রিয়া, ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অর্থ উত্তোলন, কিংবা সময়ক্ষেপণকারী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সর্বশেষ স্বাক্ষরক্ষমতা বিহীন সভাপতির ক্ষমতার দৌরাত্ন দূর হওয়ার আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র আজ ভিন্ন এবং হতাশাজনক।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিতই অভিযোগ করছেন যে মাস পার হয়ে গেলেও বেতন আসে না, উৎসব বা পোশাক ভাতার মতো এককালীন সুবিধাগুলো সময়মতো পৌঁছে না। এমনকি প্রতি মাসের বেতন ১৫ তারিখ গত হয়ে গেলেও শিক্ষক কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে পৌছে না। এই সকল না পাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে ইএফটি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। অর্থ বিভাগের দেরি, হিসাব নিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) অফিসে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবহেলা এবং মাউশির সময়মতো শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য পাঠাতে বিলম্ব—এই সবকিছু মিলিয়েই ‘ইএফটি’ নামের প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধাটি আজ শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

যেখানে একটি ক্লিকেই টাকা পাঠানোর কথা, সেখানে একাধিক দপ্তরের অনুমোদন, তথ্য যাচাই, সিস্টেম আপডেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই, ইএমআইএস ডেটার সাথে মিল খুঁজে বের করার মতো অজস্র ধাপ শিক্ষকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইএফটি ব্যবস্থায় ডেটা এন্ট্রি বা সংশোধনের জন্য নির্ভর করতে হয় প্রতিষ্ঠান প্রধান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা বা বিভাগীয় দপ্তরের উপর। ফলে, কারও সামান্য গাফিলতির কারণে মাসের পর মাস শিক্ষকরা বেতন বঞ্চিত হন, অথচ জবাবদিহি নেই কারও। একজন অন্যজনের উপর দায় চাপিয়ে দায়সারা হতে চায় প্রতিনিয়ত আর সকল ক্ষেত্রে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে শিক্ষক অথবা কর্মচারীদের।

বড় পরিসরে চিন্তা করলে বোঝা যায়, শুধু প্রযুক্তিগত কাঠামো বদলালেই হয় না—মানসিকতা, জবাবদিহি ও বাস্তবায়নের দক্ষতা না থাকলে তাতে কোনো সুফল আসে না। ইএফটি ব্যবস্থা চালু হলেও পুরনো ধাঁচের আমলাতান্ত্রিকতা, সময়ক্ষেপণ এবং অসংগতি থেকেই গেছে। ফলে শিক্ষকরা ক্ষোভে, হতাশায়, আর্থিক কষ্টে পড়ে যান—তাদের পরিবারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার কেউ কেউ ব্যাংকে ঘুরে ঘুরে খোঁজ নেন, কেউ অপেক্ষা করেন এসএমএস আসবে কি না, আবার কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন—”এই তো একই লাউ, শুধু কদুর রূপ নিয়েছে!” সর্বশেষ ১৫জুন দেশের বিভিন্ন মিডিয়া বা পোর্টালে একটি খবর বের হয় যা রীতিমত হাস্যকর বা হতাশাজনক যেখানে বলা হয়েছে ৩টি কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানে প্রতিমাসে বিলম্ব ঘটছে। কারণগুলো আমি এখানে আবারও উল্লেখ করছি-

১) প্রথম কারণটি হচ্ছে মাউশি থেকে যথাসময়ে বেতনের প্রস্তাব (বিল) পাঠানো হয়নি, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াই ধীরগতিতে এগিয়েছে। এখানে যে প্রশ্নটি শিক্ষক কর্মচারীগণ মাউশিকে করতেই পারে বেতনের প্রস্তাব পাঠানোর দায়িত্ব কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের। এ দায়িত্বতো মাউশি এখন অবধি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রদান করেনি। কেন করেনি না বা করছে না তা একমাত্র মাউশিই ভাল বলতে পারবে। হতে পারে মাউশি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত শিক্ষক কর্মচারীদের অতিমাত্রায় ভালবাসে তাই তাদের কাজ নিজেদের হাতে রেখে দিয়েছে। অথবা মাউশি তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে যাতে করে প্রতিমাসে কোন না কোন অজুহাতে বেতন প্রদানে বিলম্ব করা যায়। তা না হলে মাউশি কেন আজ অবধি বিল সাবমিট অপশন চালু করল না কেন? মাউশির হাতে এত কাজের চাপ বিল সাবমিট অপশন চালু করলেতো কিছু কাজের চাপ কমে যায়।

২) দ্বিতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে বিল অনুমোদনে বিলম্ব হয়েছে। বিশেষ করে বেতনের জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) জারিতে দেরি হয়েছে, যা অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। এ সমস্যাটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অদৃষ্ট জনিত সমস্যা আর এটাকেই বলা হয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এটাই হল আমাদের আমলাতন্ত্রের কারিশমা।

৩) তৃতীয় কারণটি কাঠামোগত—প্রতিমাসেই নতুন করে বেতনের প্রস্তাব পাঠাতে হয়, যা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং এতে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ধাপ পার হতে হয়। এ সমস্যা সমাধান না হলে ইএফটির সুবিধা পাবেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। ভেবে দেখেনতো এ দেশের আর কোন পেশাজীবিদের এভাবে প্রতিমাসে নতুন করে বেতনের প্রস্তাব পাঠাতে হয়। এটাও আমাদের আমলাতন্ত্রের এক অপরূপ কারিশমা।

সবচেয়ে নিরেট ও ধ্রুব সত্যটা ১৫ জুন ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো: জহির উদ্দিন মিডিয়াকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইলেক্ট্রনিক ফান্ডন ট্রান্সফার (ইএফটি) আর বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটি এক না। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ইএফটির জন্য প্রতিমাসে অনুমোদন নিতে হয়। তবে সরকারিদের ক্ষেত্রে এ অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। যার কারণে ইএফটিতে বেতন-ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

তাহলে কেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়ে এই নীরেট তামাশা। যদি আমাদের ইএফটি সরকারীদের মতো পরিচালিত না হয় বা এক না হয় তাহলে কেন আমাদের নিয়ে এই রকম হাসি তামাশার খোরাক করা। কেন আমাদের সাথে এই ইএফটি ইএফটি খেলা করা। ইএফটি যুগের পূর্বেতো তাও মাসের ৮-১০ তারিখের মধ্যে বেতন পাওয়া যেত। এখনতো ইএফটির দোহাই দিয়ে মাসের ২০ তারিখ কখনও বা মাসের শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

আজ আমার এদেশ ও এদেশের নীতিনির্ধারকদের নিকট একটি বিশেষ আকুতি বা আমি সবিনয়ে আপনাদের নিকট জানতে চাই? কেন আমাদের সাথে এই তামাশা? আর কতকাল আমরা এদেশের এভাবে অবহেলার স্বীকার করা হবে? আর কতকাল আমাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে এভাবে প্রতারণার স্বীকার করা হবে? আমরা কি এদেশের কোন দায়িত্বশীল কাজ করিনা। এদেশের নীতিনির্ধারকেরা কি করে ভুলে যায় যে আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা মিলে কিন্তু ৯৫-৯৭% শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করি। সেই আলোয় আলোকিত হয়ে সেই শিক্ষার্থীরা যখন আমলাতন্ত্রের খোলসে আবর্তিত হয় তখন ভুলে যায় যে কিভাবে আজ তার এই পর্যায়ে পৌছেছে।

অবশেষে বলা যায়, ইএফটি ব্যবস্থার লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বড় এক ব্যবধান। এটি শুধুই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ নয়, বরং এটি আমাদের প্রশাসনিক উদাসীনতা ও জবাবদিহিহীন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই ‘হায়রে সাধের ইএফটি—যে লাউ সেই কদু’—এই প্রবাদ এখন শুধুই বিদ্রূপ নয়, বরং বাস্তবতার করুণ প্রতিচ্ছবি। এই ব্যবস্থার বাস্তব ও সময়োপযোগী সংস্কার ছাড়া শিক্ষক সমাজের এই দুঃখের অবসান সম্ভব নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme