দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করে তোলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
ডিআইএ সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষকরা আধুনিক শিখন-কৌশল, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন। এতে করে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান আরও কার্যকর হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আসবে। এতে করে শিক্ষার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি শিক্ষকদের পেশাদারিত্বও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এই প্রসঙ্গে ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশের অসংখ্য শিক্ষক, বিশেষত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষকরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পেয়েই পাঠদান করে থাকেন। এর অন্যতম কারণ হলো, দেশে পর্যাপ্ত টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) নেই। ফলে তারা প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়েন। এ ঘাটতি পূরণ করতেই দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, ও পাঠদান কৌশল বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা হবে বলেও জানান ডিআইএ পরিচালক। তার মতে, এই প্রশিক্ষণ না থাকায় বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাগত চাহিদা পূরণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারবেন এবং সামগ্রিকভাবে এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সার্বজনীন ও সহজলভ্য করতে প্রতিটি জেলায় একটি করে কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। বিশেষভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণের পরিধি ও সুযোগ বাড়বে।
ঢাকা মহানগরীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে যে কয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই সেখানে নতুন করে আরও তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের চাপ কমবে এবং মানোন্নয়ন ঘটবে।
Leave a Reply