বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলির লক্ষ্যে প্রণীত তথ্য ইনপুট সফটওয়্যার এখনো মাঠপর্যায়ে পাঠাতে পারেনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) নিজ দপ্তরে আলাপকালে মাউশির উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, সফটওয়্যার হালনাগাদের কাজ এখনও চলমান। বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে এর কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সফটওয়্যার সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তা উন্মুক্ত করা ঠিক হবে না, তবে যথাসম্ভব দ্রুত এটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, সফটওয়্যার উন্মুক্ত হওয়ার নির্দিষ্ট দিন বলা না গেলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সফটওয়্যারের ডেমো সংস্করণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তথ্য ইনপুট দিতে পারবেন।
জানা গেছে, ৭ জুলাই থেকে সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পদ ও শূন্যপদ সম্পর্কিত তথ্য দেখা যাবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর তা উপজেলা শিক্ষা অফিস যাচাই করবে এবং পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তা পুনরায় যাচাই করে মাউশিতে পাঠাবেন। আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়া থাকছে না।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সফটওয়্যারে শিক্ষকদের নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন—কোন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশ পেয়েছেন, কোন বিষয়ের শিক্ষক, পদের নাম, কমিটি নাকি এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ইত্যাদি বিস্তারিত দিতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একসময় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন, যা আমলাতান্ত্রিক বিরোধিতায় বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার বদলি প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় বদলিনীতিমালা জারি করা হয়। এ বছরের মধ্যেই এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।
Leave a Reply