আগামী ৬ জুন (শুক্রবার) চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। যদিও এ তারিখ এখনও পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি এটি আনুমানিক। এ উপলক্ষে বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে সময়মতো বেতন ও ঈদ বোনাস পান, সে লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল। যা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার মত কার্যক্রম তবে তা যদি হয় কার্যত তবেই। যদি তা কথার কথা হয়ে থাকে বা লোক দেখানো কথা হয়ে থাকে তাহলে তা হবে আরও বেশি ভয়াবহ।
ইএমআইএস সেল জানিয়েছে, আগামী ২৫ মে’র মধ্যে মে মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে দ্রুতই চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করে ব্যাংকে পাঠানো হবে। এখানে উৎসব ভাতার বৃদ্ধির বিষয়ে মাউশিকে প্রশ্ন করা হলে মাউশির পক্ষ থেকে বলা হয় এ বিষয়ে আমাদের কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদেরকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করবে আমরা সেভাবেই উৎসব ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করব। আমাদের কাজ ডিষ্ট্রিবিউশন করা বরাদ্দ বাড়ানো ও কমানোর কাজ মন্ত্রণালয়ের।
আরও পড়ুন……এপ্রিলের বেতন দ্রুত দিতে আগাম প্রস্তুতি ইএমআইএস সেলের
ইএমআইএস সেলের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট খন্দকার আজিজুর রহমান বলেন, “ঈদে যেন শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ পেতে রোজার ঈদের মতো যাতে দেরি না হয়, সেজন্য আমরা আগেভাগেই কাজ শুরু করেছি। ২৫ মে’র মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে পারলে ঈদের ছুটির আগেই সবাই অর্থ তুলতে পারবেন।” আমাদের সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।
ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঈদুল ফিতরের সময় বেতন-বোনাস দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছিল। সারা দেশে এ বিষয় নিয়ে অনেক হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল যে বিষয় নিয়ে সরকারও অনেক বেশি বিব্রত হয়েছে। তাই এবার আগেভাগেই সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (EFT) পদ্ধতিতে সরাসরি বেতন-ভাতা পেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে জটিল প্রক্রিয়ায় টাকা পেয়ে আসছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানে ইএফটি চালুর ঘোষণা দেয়।
পর্যায়ক্রমে লাখো শিক্ষক ইএফটির আওতায় আসেন। প্রথমে ২০৯ জন, এরপর জানুয়ারিতে ১ লাখ ৮৯ হাজার এবং পরবর্তী ধাপে আরও কয়েক দফায় প্রায় তিন লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটির মাধ্যমে বেতন পেয়েছেন। সর্বশেষ মার্চ মাসের বেতন ও বৈশাখী ভাতা বুধবার থেকে প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার এর অধিক শিক্ষক কর্মচারীদের প্রদান শুরু হয়েছে।
যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ এখনও ইএফটির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা এখও পেতে শুরু করেননি। কোনদিন নাগাদ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ পূর্ণাঙ্গ ইএফটির সুবিধা পেতে পারেন এ বিষয়ে মাউশির নিকট জানতে চাইলে মাউশির ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বলেন অচিরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক ইএফটির সকল সুবিধা পাবেন। এবং তাদের বেতন প্রদানের এই বিড়ম্বনা থাকবে না। সেই সময় পর্যন্ত সকলকে একটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
Leave a Reply