বাংলায় অনেক প্রচলিত প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যেগুলো শুনলে আমাদের অনেকেরই হয়ত হাসি পায়, অনেকে হয়ত ভাবেন ঠাট্টা বা মশকরা করা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যদি খুব ভালভাবে ভাবা যায় তাহলে এর আসল সত্যগুলো বেরিয়ে আসে, বেরিয়ে আসে আসল মর্মার্থ। বহুল প্রচলিত অনেক প্রবাদ বাক্য রয়েছে তার মধ্যে একটি প্রবাদ বাক্য হলো “কয়লা ধুলে ময়লা যায় না”। বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্যটি কেন এখানে অবতারণা করলাম নিশ্চয়ই আমার মনে হয় আপনাদের আর ব্যাখার প্রয়োজন নাই।
আমি কিছুদিন আগে একটি লেখায় বলেছিলাম যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও বৈশাখী ভাতা পেতে পেতে কমপক্ষে এপ্রিলের ১৫ তারিখের পর এর আগে কোন মতেই আমাদের বেতন দিবে না মাউশি। এমনকি ২০ তারিখও হয়ে যেতে পারে। এই কথা বলায় আমাকে অনেকে অনেক ধরনের ভালমন্দ কথা বলেছে। এখন আশা করি মিলিয়ে নিবেন দয়া করে।
আমি এ কথাও বলেছিলাম যে, মাউশি প্রথম সপ্তাহ নানা টালবাহানা করে কাটাবে আর ২য় সপ্তাহ থেকে শুর করবে যে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যত দ্রুততর সময়ের মধ্যে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা যায়। সেই ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই।
আজ মাউশি থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে……………। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে আগামী সপ্তাহে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেতে পারেন। আগামী সপ্তাহ যে, কোন দিন আসবে তা বলা বড়ই মুশকিল। কারণ বিষয়টি ভেবে দেখেন এই সপ্তাহের আর আছে একদিন তারপর আগামী সপ্তাহ শুরু হবে ১৩ তারিখ দিয়ে। ১৪ তারিখ ১লা বৈশাখ। ১৫ তারিখে খুলবে সরকারী অফিস। এখন আপনারাই ভেবে দেখেন বেতন কোনদিন হবে বা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মিডিয়ার সাথে আলাপকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শীর্ষ এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির ওই কর্মকর্তা জানান, ‘মার্চ মাসে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬০২ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইনফরমেশন (ইএমআইএস) সেল কাজ করছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে শিক্ষক-কর্মচারীরা মার্চ মাসের বেতন পাবেন।’ তাহলে বৈশাখী ভাতা আবার কোন দিন এর কোন জবাব এখন দিতে পারেনি মাউশির কোন কর্মকর্তা। তারা এখন বলছে মার্চ মাসের বেতনের কথা। শিক্ষকদের ১লা বৈশাখ পালন করতে হবে বৈশাখী ভাতা ছাড়া। এখন একটু ভাবুন মুখে এত বড় বড় কথা বলে কি লাভ। মাউশির কর্মর্তাদের বলছি আপনাদের গুণগত মানের কি কোন পরিবর্তন হয়েছে। হয়নিতো আগেও আমাদের শুনতে হয়েছে এখনও শুনতে হয় শুধু আশার বাণী প্রতি মাসে এই আশার বাণী শুনতে শুনতে কিন্তু নিরাশায় ভর করে ফেলেছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক আগে থেকেই কিন্তু ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। এখনও পাচ্ছেন ভবিষ্যতেও পাবেন তাদের ব্যাপারে আমাদের সরকার ব্যবস্থার কোন সমস্যা নাই। যত সমস্যা শুধু আমাদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের সুদ বাণিজ্য চলমান রেখে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে ছাড় হত এতদিন। এই অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। যা কিন্তু এখনও চলমান রয়েছে। এখন বিড়ম্বনা শুরু হয়েছে নতুন ধাঁচের।
এই সমস্যা দূরীকরণের জন্য গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ২০৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের এমপিও ইএফটিতে ছাড় হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১ জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা পেয়েছেন। এভাবে দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ হাজার, তৃতীয় ধাপে ৮৪ হাজার, চতুর্থ ধাপে ৮ হাজার ২০০ এবং ৫ম ধাপে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে দুই মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে এই শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো মার্চ মাসের বেতন পাননি। যা নিয়ে মাউশি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যাক সেই চেষ্টার ফল কতদিনে পাওয়া যায়। দেখা যাক কয়লার ময়লা কোন দিন যায় কিনা কিন্তু যাবে না এটাই সত্যি। তবে একটা কাজ করা যেতে পারে কয়লা থেকে দুরে থাকা এখন দেখছি সেই চেষ্টা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সেই অভ্যাসই গড়ে তুলেতে হবে।
[…] আরও পড়ুন……বেতন নিয়ে মাউশির চোর পুলিশ খেলার শেষ ক… […]