পৃথিবীতে আমরা প্রত্যেকে যখন যে কাজ করি তা করার সময় যদি একটু ভাবি যে, এর ফল কি হবে তাহলে কিন্তু পৃথীবিতে এত সমস্যা, এত জটিলতা, এত নোংরামি কিছুই হতো না। এই পৃথিবীর মানুষ একটা বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা করে তা হল কে কিভাবে অন্যকে কত বেশি ঠকাবে। এই পৃথিবীতে যে বেশি অন্যকে ঠকাতে পারে তাকে তত বেশি স্মার্ট বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এটাই এই পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা।
আমরা এদেশের বৈষম্য নীপিড়িত শিক্ষক সমাজ। আমাদের পেশার নাম হলো Multiples Problem Occupation বা MPO ভুক্ত শিক্ষক সমাজ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ রাষ্ট্র সর্বদা একটা নীতি মেনে চলে তা হল এই শিক্ষকদের প্রয়োজন যতটুকুই থাক না কেন মেটানো হবে যৎসামান্য। তা দিয়ে এদের প্রয়োজন কতটুক মিটবে তাতে আমাদের কোন যায় আসে না। আর এই ধরনের নীতি গ্রহণ করার সাহস তারা এ জন্যই পায় যে, আমাদের নিজেদের মধ্যে নেই বিন্দু মাত্র ঐক্য. নাই নিজেদের মধ্যে বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ। আমাদের জন্য এ ধারণাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য, কারণ আমাদের জীবন ও পেশাগত পরিস্থিতি সরকারী নীতিমালা, বেতন নির্ধারণ, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং সংগঠনগত সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অনেক সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, যার ফলশ্রুতি তাদের জীবনে বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করে কিন্তু সরকার ব্যবস্থার তাতে বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই।
আরও পড়ুন……ইএফটির সকল সমস্যা দূর হবে কোনদিন?
আমরা যখনই কোন চাওয়া পাওয়া নিয়ে সরকারের নিকট হাজির হই প্রথমত সরকার তা খুব একটা ভাল ভাবে গ্রহণ করে না। যদিও এর পিছনে আমাদের নিজেদেরও দায়বদ্ধতা আছে কারণ আমরা কখনই সকলে একযোগে সরকারের নিকট দাঁড়াতে পারি না। আমরা যাই মুষ্টিমেয় কিছু জন যা দেখে আমাদের কর্তৃপক্ষ মিটিমিটি করে হাসে আর মনে মনে বলে যে, এরা তো নিজেরাই ঠিক নাই অতএব এদের ফাঁকি দেওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কারণ দশজনের বাঁধা যত সহজে অতিক্রম করা যায় যদি সেই বাঁধা ১০০০জন মিলে দেওয়া যেত তাহলে কিন্তু সেটা অতিক্রম করা এত সহজ হতো না। কিন্তু আমরা সেই ১০০০ জনের বাঁধ তৈরি করতে পারি না। আমাদের মধ্যে নানা মত নানা দল নানান রকমের বিভক্তি। আমরা কখনও ভাবিই না যে, আমরা সকলেই একই পেশার অন্তর্ভুক্ত যদি কোন চাওয়া পাওয়া আদায় করতে পারি তাহলে সকলে উপকৃত হব।
গত কিছুদিন আগের একটি আন্দোলনের ফলে সরকার একটু নমনীয়তা প্রর্দশন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাড়ানোর ও একটি নতুন ভাতা যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে এখন যা জানা যাচ্ছে তা হল সামনে যে ঘোষণা আসতে চলেছে তা একটি নতুন প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রহসন এই জন্য বলছি যে, দীর্ঘদিনের আমাদের এই বেষম্যের যদি এই সমাধান হয় তাহলে এটাকে প্রহসন ছাড়া আর কি বা বলা যায় বলেন।
বিভিন্ন সুত্র মোতাবেক যতটুকু জানা যাচ্ছে তা হলো যে, আমাদের উৎসব বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ ২৫% বা তার কমও হতে পারে। বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আর। চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি পাবে সম্ভবত ৫০০টাকা। আর নুতন যুক্ত শান্তি বিনোদন ভাতা আমাদের জন্য বরাদ্দ প্রতি তিন বছর পর পর ১০%।
এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন যে, আপনার বা আমাদের কি এই দেশের বা রাষ্ট্রের নিকট থেকে এ ধরনের প্রহসন মুলক প্রাপ্তি আশা করি। যদি সবাই বলেন হ্যাঁ ঠিক আছে তাহলে কিছু বলার নাই আর যদি বলেন না ঠিক নাই তাহলে একটি কথাই বলব তা হল আসুন আমরা একতাবদ্ধ হই। একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নিতে প্রস্তুত হই।
সঠিক কথা বলেছেন।
I am agree House rent minimum 45% usoabbatha 100% medical announce1500 taka