আপিল বিভাগের রায়ে মামলাজট কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনায় অন্তর্ভুক্ত করে জ্যেষ্ঠতার (গ্রেডেশন) তালিকা প্রস্তুত, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষকরা আদালতের দ্বারস্থ হন। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে প্রথম রিট আবেদন হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। পরে একই বিষয়ে আরও একাধিক রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্টে এসব রিটের ওপর রায় ঘোষণার পর ২০২৩ সালে বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায়।
গত ১৮ জুন আপিল বিভাগে এ সিভিল আপিলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।
এ বিষয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সেখানে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার আদালতের কাছে ধারাবাহিকভাবে আবেদন জানিয়ে আসছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দ্রুত রায় দেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা খাতে চলমান মামলাজট নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, আইনি জটিলতা ও একের পর এক মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালতে এসব মামলার নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মামলাগুলো এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি। এর ফলে সারা দেশে তীব্র শিক্ষক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
Leave a Reply