বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফার (বদলি) করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করা হবে না; বরং তাদের এমন প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ এমপিও খাতে ব্যয় করছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি স্কুল বা মাদ্রাসায় মাসে প্রায় চার লাখ টাকা এমপিও দেওয়া হয়, যা বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এত অর্থ ব্যয়ের পরও যদি কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে অথবা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের এমপিও বাতিল করে দেওয়া সমাধান নয়। বরং তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ওনাদের এমপিও ক্যানসেল করে দেব? এটা বলা ঠিক না। আমি ওনাদের ট্রান্সফার করে দেব। এজন্যই আমি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ বানিয়েছিলাম। দ্যাট ইস মাই ব্রেইন চাইল্ড।”
মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এখন একই ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রমও পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষক চাকরি হারাবেন না; তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নেই বা শিক্ষা কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেখানকার শিক্ষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষার্থীই না থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ব্যয় করতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ রাখতে শিক্ষকদের যথাযথভাবে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা রোধ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে তিনি নিজেই বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস (বিজি প্রেস)-এ গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেছেন। সেখানে প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস হওয়ার সুযোগ না থাকে।
এছাড়া পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায়ও কঠোর নজরদারির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার উত্তরপত্র এলোমেলোভাবে (রেন্ডমলি) যাচাই করা হবে। কোনো পরীক্ষক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কম বা বেশি নম্বর প্রদান করে থাকেন, তাহলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a Reply