বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই শিক্ষকদের অনলাইনে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাঠপর্যায় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম চলবে। এরপর অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। সবকিছু সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইনে বদলি আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই থেকে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত তথ্য ভেরিফাই এবং চূড়ান্তকরণের কাজ চলবে। এরপরই শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। আমরা চাই জুলাই মাসের মধ্যেই শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই থেকে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে সফটওয়্যারের কারিগরি সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতা না হলে ২০ জুলাই থেকেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। এই আবেদন কার্যক্রম দীর্ঘ সময় চালানো হবে না, বরং সীমিত সময়ের মধ্যেই আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অন্যদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সফটওয়্যারে ইনপুট দেওয়ার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সফটওয়্যারে ইনপুট দিতে পারবেন।
গতকাল রোববার এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় শিক্ষক-কর্মচারী বদলির জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডাটা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান ছিল।
তবে তথ্য সংগ্রহের সময় সফটওয়্যারে কারিগরি সীমাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় হঠাৎ করেই সার্ভার শাটডাউন হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ডাটা সংগ্রহের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কারিগরি টিম সফটওয়্যারের সমস্যাগুলো সমাধান করলে পুনরায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়।
মাউশি জানিয়েছে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য বা প্রয়োজনীয় ডাটা সফটওয়্যারে ইনপুট দিতে পারেনি, তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব তথ্য ইনপুট সম্পন্ন করে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ইনপুট, যাচাই (ভেরিফাই) এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৫ জুন ২০২৬। এরপর উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ধাপে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম শেষ করবেন।
অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য তথ্য ইনপুট, যাচাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময়ও ২৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আঞ্চলিক উপপরিচালক (কলেজ) পর্যায়ে যাচাই ও অনুমোদনের কাজ আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। সবশেষে আঞ্চলিক পরিচালকদের আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য বা ডাটা নির্ধারিত সফটওয়্যারে অবশ্যই ইনপুট দিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সব ধাপ শেষ হওয়ার পর মাউশি নিজস্ব পর্যায়ে তথ্যগুলো আবারও পর্যালোচনা করবে। এরপরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন বদলি আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই থেকেই সেই আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বদলি আবেদনের জন্য সময় জানতে পারাটা ভালো, তবে কবে শুরু হবে সেটাও জানানো উচিত ছিল। আশা করি শীঘ্রই বিস্তারিত জানাবে।