বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্য পদের ভুল তথ্য বা চাহিদা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ভুল তথ্য প্রদানের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে। মাউশির বেসরকারি কলেজ-৩ শাখা থেকে জারি করা ওই নোটিশে স্বাক্ষর করেন সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন।
জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়। ওই পত্রের আলোকে আঞ্চলিক পরিচালকরা কলেজ পর্যায়ের শূন্য পদসমূহের সঠিকতা যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন মাউশিতে প্রেরণ করেন।
আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোট ২৩৭টি পদের ক্ষেত্রে ভুল বা ‘ইনকরেক্ট’ চাহিদা প্রদান করেছে। এসব ভুল চাহিদা বিভিন্ন কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজের নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবেদনে যেসব অনিয়মের কথা উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে— জনবল কাঠামো বা প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য চাহিদা প্রদান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক চাওয়া, ভুল বা অসঙ্গত তথ্য দিয়ে চাহিদা প্রেরণ, সংশ্লিষ্ট পদের বিপরীতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে চাহিদা প্রদান, শিক্ষক প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগের জন্য আবেদন পাঠানো এবং যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করা।
মাউশি আরও উল্লেখ করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এ ধরনের ভুল চাহিদা প্রদান একদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে, অন্যদিকে ভুল পদের বিপরীতে কোনো ব্যক্তি সুপারিশপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হলে পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে তাকে চরম ভোগান্তি ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়মকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভুল চাহিদা প্রদান এবং যাচাই কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যথাসময়ে সরবরাহ না করার ঘটনাকে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঘ) ধারার আওতায় বিবেচনা করা হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত জবাব ও মতামত আগামী ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
Leave a Reply