বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রমে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যারে পর্যাপ্ত স্পেস না থাকায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দিতে পারছেন না। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উদ্বেগে পড়েছেন, অন্যদিকে বদলির অপেক্ষায় থাকা হাজারো শিক্ষকও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) মাউশির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারে বিদ্যমান স্পেস সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির জবাবে টেলিটক জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যার মধ্যে সফটওয়্যারের ধারণক্ষমতা বা স্পেস বৃদ্ধি করে সেটিকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই সফটওয়্যারটি আবার ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১০ জুন ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য বদলি-সংক্রান্ত তথ্য সফটওয়্যারে ইনপুট দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু সফটওয়্যারের কারিগরি সমস্যার কারণে ওইদিন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধানই তথ্য আপলোড করতে সক্ষম হননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে সবাই বঞ্চিত হয়েছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাউশির সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দের বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে। শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুটের সময়ই নয়, সামগ্রিক বদলি কার্যক্রমের সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বদলি কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার তথ্য ইনপুট ও যাচাই কার্যক্রমের সময়সীমা জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। যেহেতু তারা কারিগরি সমস্যার কারণে তথ্য জমা দিতে পারেননি, তাই অবশ্যই সময়সীমা বাড়ানো হবে। বিষয়টি নিয়ে টেলিটক কাজ করছে। আশা করছি আগামীকাল বিকেলের পর সফটওয়্যারটি আবার লাইভ করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সফটওয়্যার সচল হওয়ার পর শুধু তথ্য ইনপুট দিলেই কাজ শেষ হবে না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এসব ধাপ সম্পন্ন হয়ে তথ্যগুলো চূড়ান্তভাবে সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
ওই কর্মকর্তা জানান, গত ছয় দিন ধরে সফটওয়্যার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই বিলম্বের প্রভাব বদলি কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়ার ওপর পড়বে। সে কারণে জুলাই মাসের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন কার্যক্রম শেষ করতে গিয়ে সময়সীমা আরও বাড়তে পারে এবং পুরো কার্যক্রম জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সফটওয়্যারের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা গেলে বদলি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে। তবে সফটওয়্যার সচল হওয়ার পর নতুন সময়সূচি অনুযায়ী তথ্য ইনপুট, যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply