শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধার অর্থ থেকে বঞ্চিত থাকা শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক তাদের অবসর সুবিধার অর্থ পাননি। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই পর্যায়ক্রমে অর্থ প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে এবং ধাপে ধাপে শিক্ষকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৪-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মিলন বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে প্রদান করা হচ্ছে। তবে এটিকে শতভাগে উন্নীত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরু হবে। বাজেট কার্যকর হওয়ার পর ধাপে ধাপে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি পেয়ে একসময় শতভাগে উন্নীত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের ব্যাপক সংকট রয়েছে। এই সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় আদালতে স্থগিত থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আদালতে বিচারাধীন থাকার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মোট ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও বক্তব্য দেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও বর্তমানে আবারও এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করা হচ্ছে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দূর-দূরান্তের এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের সুবিধার্থে সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজে বদলির আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। তিনি জানান, সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এটি চালু করা সম্ভব হবে।
ড. মিলন বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, “উই আর অলমোস্ট রেডি। সবকিছু একবারে হয় না, একটু সময় লাগে।” শিক্ষকদের কল্যাণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সরকারের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply