অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থপ্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি মাস কিংবা আগামী মাসের মধ্যেই এই অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারী তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। অর্থসংকট ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে বিষয়টির দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বরাদ্দের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাস অথবা আগামী মাসের মধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে। শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বড় অর্জন এবং এতে বহু শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আব্দুল খালেক বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বড় পরিসরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। তবে শুধু বাজেট বরাদ্দ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। বরং সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন বাজেট ও উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা খাতে চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ কে স্বাগত জানানাই পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য আশাকরি কতৃপক্ষ বিষয়টি সুবিবেচনা করবেন। ধন্যবাদ