বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ভাইভা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইভা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা এআই পদ্ধতিতে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা ভাবছি, ভাইভায় যে প্রার্থী ফেল করবেন সেটাও ফেল। আরও কিছুদিন আমরা এআই দিয়ে ভাইভা নেওয়ার চেষ্টা করছি। দেখা যাক, যদি না হয় তাহলে ম্যানুয়ালি ভাইভা নেওয়া হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রক্রিয়া চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি সক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এজন্য বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে এআইভিত্তিক ভাইভা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ম্যানুয়ালি ভাইভা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। যাতে যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায়সংগতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান এবং নিয়োগ নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ নিয়োগ পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরীক্ষার ফলাফলে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ পদে মোট ১১ হাজার ১৫০টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে সরকার নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে এই নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষে যদি পরীক্ষায় কোনো ধরনের ত্রুটি, অনিয়ম বা অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমনকি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বর্তমান পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার চায় যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে। এজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
Leave a Reply