শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার শিক্ষার উন্নয়ন ও কল্যাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে শিক্ষাখাতে মোট বাজেট দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ। পাশাপাশি আসন্ন অর্থবছরে শিক্ষার জন্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। টাকার অঙ্কে এ বাজেটের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষাখাতের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে যেসব শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ পাননি, তাদের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা এসব অর্থ পরিশোধের লক্ষ্যে সরকার দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বকেয়া পরিশোধের জন্য বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার শিক্ষক ও তাদের পরিবারের আর্থিক দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী এক মাসের মধ্যেই এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে তাদের প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়া যায়।
তবে শিক্ষামন্ত্রী এ সময় একটি গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অতীতে কয়েক হাজার কোটি টাকা তসরুফ বা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ সরকারের কাছে এসেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে শিক্ষক কল্যাণ তহবিলের অর্থের অপব্যবহার না হয় এবং শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য সুবিধা সময়মতো পান, সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষকদের কল্যাণ, অবসর সুবিধা এবং অন্যান্য পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আস্থা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply