বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে মোট ১৪টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আর নতুনভাবে এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ; তাদের বেতন পাওয়ার জন্য মোট ১৮টি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন যোগদানকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়া শুরু হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে এমপিও আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে। এরপর আবেদনটি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনুমোদন শেষে আবেদনটি মাউশিতে আসে এবং এমপিও সভায় অনুমোদন লাভ করে।
এরপর আবেদনটি ইএমআইএস সেলে পাঠানো হয়, যেখানে এমপিও প্রসেসিং সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে একটি ইনডেক্স নম্বর প্রদান করা হয়। ইনডেক্স নম্বর পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
ইনডেক্স নম্বর প্রাপ্তির পর বেতন প্রাপ্তির নিয়মিত প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) বিল জমা দেওয়া হয়। এরপর সেই বিল আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। আইবাস++ কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে পুনরায় মাউশিতে পাঠায়। এরপর ইএমআইএস সেলের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু হয়।
পরবর্তী ধাপে ইএমআইএস সেল থেকে এমপিওর চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত করা হয়। চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হলে তা অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়।
জিও জারির পর আবারও এমপিও-সংক্রান্ত তথ্য আইবাস++ সিস্টেমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তথ্য মাউশির ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়। ডিডিও’র আইডি থেকে তা পরবর্তী ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়। হিসাবরক্ষণ অফিস প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেতনের অর্থ ছাড় করে। সর্বশেষ ধাপে ব্যাংকগুলো শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতার অর্থ জমা করে। এভাবেই দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন হাতে পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মাউশির কোনো ভূমিকা থাকে না। তৃতীয় ধাপ থেকে মাউশির কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপ থেকে অষ্টাদশ ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ প্রতি মাসেই সম্পন্ন করতে হয় এবং প্রতিটি ধাপ একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। ফলে কোনো একটি ধাপে বিলম্ব হলে পরবর্তী সব ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিছিয়ে যায়। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটির অর্থ পেতেও বিলম্ব হয়।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত নবম, পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ ধাপ পর্যন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এর আগে আরও বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের প্রক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই সরকারি চাকরিজীবীরা সাধারণত মাসের শুরুতেই বেতন পেয়ে থাকেন, কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে কিছুটা সময় বেশি লাগে।
Leave a Reply