বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার পূর্বে দুই ধাপে বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে প্রথম ধাপের সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে আগামী জুলাই মাস থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জুলাই থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সংশয় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা চিঠি জারি হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো শাখায় উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক নানা ব্যস্ততা ও কাজের চাপে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও আড়ালে পড়ে যায়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তেমন কোনো অবস্থার মধ্যে পড়েছে কি না, সেটি এখন স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বাজেট) লিউজা-উল-জান্নাহর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করে। ওইদিন জারি করা সম্মতিপত্রে সরকারের বিদ্যমান বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাড়িভাড়া ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্মতিপত্রে বলা হয়, ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে, যেখানে সর্বনিম্ন ভাতা হবে ২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয় যে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ করা হবে। ফলে ওই সময় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার কথা, যেখানে সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ২ হাজার টাকার কম হবে না।
তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি না হলে জুলাই মাস থেকে বাড়িভাড়া ভাতার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।
Leave a Reply