আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বকেয়া নিষ্পত্তির জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া পরিশোধ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষাখাতের উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়টি।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৮২০টি। বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে বরাদ্দ ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে বহু শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং তাদের আর্থিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ ছাড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি “জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠারও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাপানের শিক্ষা গবেষণা কাঠামো অনুসরণ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে আধুনিক শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিক্ষা-সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তব শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, জুলাই মাস থেকে শুরু করবো। যে শিক্ষকরা হজে যেতে পারছেন না, চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তারা তাদের সন্তানদের ওপর বোঝা হতে চাচ্ছেন না—তারা কাঁদছেন। তাদের জন্যই আমরা এই ব্যবস্থাগুলো করছি। তিন মাস আমরা বসে নেই। আমাদের ইচ্ছা, জুলাই মাস থেকেই তাদের দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেওয়া। আমি বিশ্বাস করি, এই বছরের মধ্যেই আমি চেষ্টা করবো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় (কোঅপ্ট) করার।”
মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন যে, দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থপ্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট লাঘব করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত বরাদ্দ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে।
Leave a Reply