1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

পে স্কেলের আলোচনায় যে দুই প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা

  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৭৮ Time View
পে স্কেল

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন বেতন কাঠামোতে শুধু মূল বেতনই নয়, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, যার একটিতে অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, আর অন্যটিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সব গ্রেডে সমান হারে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করার পক্ষেও মত রয়েছে।

প্রস্তাব-১: সকল গ্রেডে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি

বর্তমানে আলোচনায় থাকা প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায় উন্নীত হতে পারে।

একইভাবে সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৩৩ হাজার টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন সমানুপাতিক হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাব-২: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন দ্বিগুণ

অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। আলোচনায় থাকা এই বিকল্প অনুযায়ী ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। সে কারণে নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেলেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব দুটি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে

তবে আলোচনায় থাকা দুটি প্রস্তাবের মধ্যে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। কারণ জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকরাই একই পে-স্ট্রাকচারের অংশ। সেখানে যদি একদল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং অন্য একটি বড় অংশের বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেটি কার্যত দ্বৈত মানদণ্ড বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেতন বৃদ্ধি শুধু মূল স্কেল বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, টাইম স্কেল-সদৃশ সুবিধা, ভবিষ্যৎ ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন বিষয়। ফলে একটি শ্রেণিকে তুলনামূলকভাবে দ্বিগুণ সুবিধা দেওয়া হলে অন্য গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষ করে যারা ৫০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি পাবেন, তাদের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে একই জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় থেকেও কেন ভিন্ন ভিন্ন হারে সুবিধা দেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাই অনেকের মতে, সরকার যদি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোয়, তাহলে এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত যা সর্বজনীন, গ্রহণযোগ্য এবং সকল গ্রেডের জন্য ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচিত হবে। বেতন কাঠামোয় বৈষম্যের অনুভূতি সৃষ্টি করে এমন কোনো পদক্ষেপের পরিবর্তে, সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হবে একান্ত কাম্য।

তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারিত না হলেও আলোচনায় থাকা দুটি বিকল্পের মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাস্তবায়নের আগে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme