নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। নতুন এই পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সোমবার (২৫ মে) পে-কমিশনের এক সদস্য দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পে-কমিশনের প্রতিবেদনে যে আর্থিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তার পরিমাণ যথেষ্ট বড়। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরিজীবীদের যেভাবে বেতন বাড়ানো হবে, একই হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও বৃদ্ধি পাবে। যদিও তারা সরাসরি সরকারি চাকরিজীবী নন, তারপরও পে-কমিশনের সুপারিশে তাদের বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে সরকারের কত অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই হিসাবও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ই পুরো বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে। পে-কমিশনের প্রতিবেদনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রস্তাব বা সুবিধা বর্তমানে আলোচনায় নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কীভাবে ধাপে ধাপে বা কোন কাঠামোয় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বর্তমানে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।
অন্যদিকে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকরাও মাঠে নামেন এবং তাদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুত নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা। শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
Leave a Reply