বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাধ্যমে তথ্য ইনপুটের জটিলতা এবং ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্ভাব্য সুপারিশ—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ১০ জুনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য টেলিটকের তৈরি করা সফটওয়্যারে ইনপুট দিতে হবে। কিন্তু সফটওয়্যারটিতে অনেক ধরনের তথ্য যুক্ত করতে হবে বলে এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানপ্রধান তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি-সংক্রান্ত কাজে খুব বেশি দক্ষ নন। ফলে ভুল তথ্য ইনপুট হলে বদলির আবেদনকারী শিক্ষকরা নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই যদি ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় সুপারিশ দেওয়া হয়, তাহলে বদলি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন দূরের জেলায় কর্মরত আছেন এবং নিজ জেলার কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে ফিরতে চান, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
কারণ, ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই শূন্য পদগুলোতে যদি নতুন নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া হয়, তাহলে পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে। ফলে পরে বদলি কার্যক্রম চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রে আর কোনো শূন্য পদ অবশিষ্ট থাকবে না। এতে দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির একজন কর্মকর্তা বলেন, বদলি কার্যক্রম চালুর জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে মাউশির আঞ্চলিক অফিসগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়ে অনলাইন সভাও করা হচ্ছে। তবে এসব সভায় অংশ নেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান সফটওয়্যারটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য যেহেতু আগে থেকেই শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাই বদলি কার্যক্রম শুরুর আগে যদি নিয়োগের সুপারিশ সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো কার্যত ব্লক হয়ে যাবে। এতে বদলি কার্যক্রম চালু হলেও অনেক শিক্ষক কাঙ্ক্ষিত জেলায় বা বাড়ির কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
তার মতে, এ পরিস্থিতি এড়াতে হলে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সুপারিশের আগে বদলি কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই আসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a Reply