বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাই-বাছাইয়ে আরও ১১৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এসব শিক্ষকের এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা-৩ এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে মোট ৮৫ জন জাল বা ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
এনটিআরসিএ কর্তৃক যাচাই শেষে দেখা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৮৫ জন শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং স্কুল পর্যায়ের ৬১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
দাপ্তরিক আদেশে আরও বলা হয়, তালিকাভুক্ত জাল ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্রধারীদের এমপিও সুবিধা বাতিল, ইতোমধ্যে গ্রহণ করা সরকারি অর্থ ফেরত আদায় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না।
নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমপিও বাতিল হওয়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের তালিকা দেখুন এখানে
এমপিও বাতিল হওয়া কারিগরি শিক্ষকদের তালিকা দেখুন এখানে
Leave a Reply