ঈদুল আযহার আগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ২৮ মে ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে এবং এরই মধ্যে মে মাস প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে সরকারি ছুটির কারণে কার্যদিবসও খুব কম থাকায় ঈদের আগে বেতন ছাড়ের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা এবিষয়ে তোমন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তারা যে কথাগুলো বলার চেষ্টা করেছেন তা একপ্রদার দায়সার মুলক কথাবার্তা। তারা জানান, ঈদের আগে বেতন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে ঈদুল আযহার ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবস থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন ছাড়ের কাজ শুরু হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হতে পারে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং রবিবারই শেষ অফিস দিবস। ফলে এখন নতুন করে ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির বিভিন্ন সূত্র বলছে, ঈদের আগেই বেতন দিতে হলে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা প্রয়োজন হতো। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়েরও সম্মতি লাগত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থান করায় জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের আগে মে মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শিক্ষামন্ত্রণালয় ও মাউশির বিভিন্ন কর্মকর্তার সুত্রে যে তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো কি কোন দায়িত্বশীল কথাবার্তা বলে মনে হয়। শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা লাগবে তো বিশেষ নির্দেশনা কি বিদেশ থেকে দেওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে এসকল কথা বার্তা হলো দায়িত্ব এড়ানোর একটা কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। সরকারী চাকুরীজীবিদের বেলায় এতো অজুহাত লাগে না, অজুহাত শুধুমাত্র বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায়।
সরকারী চাকুরীজীবিদের বেতন প্রদানের যে রুলস রয়েছে তা একটু দেখেন-
বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ ট্রেজারি রুলসের এস আর ১১৩(২) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হয়। পবিত্র ঈদ বা উৎসব উপলক্ষ্যে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন-গেজেটেড কর্মচারী, সামরিক বাহিনীর নন-কমিশন্ড অফিসার/কর্মচারীগণের মাসের বেতন ভাতাদি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীগণের অবসর ভাতা মাস শেষ হওয়ার পূর্বেই ২৭, ২৮ বা ২৯ তারিখে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে থাকে। আসুন দেখে নিই কি রয়েছে বাংলাদেশ ট্রেজারি রুলস এর এস আর ১১৩(২) ধারাতে।
বাংলাদেশ ট্রেজারি রুলস এস.আর ১১৩। (১) যদি কোন মাসের প্রথম ছয় দিন সরকারি ছুটি থাকে এবং যদি উক্ত দিনগুলিতে ব্যাংকে বেতন ও ভাতাদি পরিশোধ করা না হয়, তাহা হইলে সরকার ইচ্ছা করিলে গেজেটেড কর্মকর্তা ব্যতীত অন্যান্যদের বেতন বিল ছুটির পূর্বের শেষ কর্মদিবসে পরিশোধের জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
ব্যাখ্যা: সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ তাহাদের নিজস্ব ও অধস্তন অফিসের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারেন। (২) বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার এই বিধিতে নির্ধারিত যে কোন শর্ত শিথিল করিতে পারেন।
ব্যাখ্যা: সরকার এই বিধির যে কোন শর্ত শিথিল করিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছয় দিনের কম থাকার ক্ষেত্রেও সরকার বেতন ভাতাদি প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
এখন এখানে যে প্রশ্ন এখানে দেখা দেয় তা হলো এমপিওভুক্ত পেশাজীবিরা তো সরকারী পেশাজীবি নয় তারা তো বেসরকারী তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এই রুলস কেন প্রযোজ্য হবে। কিন্তু এখানে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো এমপিওভুক্ত পেশাজীবিদের জন্য তো আলাদা রুলস নাই তাদের অধিকাংশ আইনকানুন সরকারীদের মতো করে পরিচালিত হয় তাহলে এক্ষেত্রে আর ব্যাতিক্রম হবে কেন।
প্রকৃত পক্ষে মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রলায়ের গাফিলতি এবং সরকারের সদ্বিচ্ছার কারণেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মে মাসের বেতন ঈদের পূর্বে প্রদান করা হলো না।
Leave a Reply