আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে ঈদের আগে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মে মাসের বেতন পাবেন কি না—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইতোমধ্যে মে মাসের বেতন বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং এখন তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও সময় সংকটের কারণে ঈদের আগে এ বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদের আগেই মে মাসের বেতন ছাড় করতে হলে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ছাড়া এ প্রক্রিয়া এগোনো সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফিরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও সময় স্বল্পতার কারণে ঈদের আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছানো কঠিন হবে। ফলে ঈদকে সামনে রেখে আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, ঈদের আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হলেও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগই ভালো বলতে পারবে।
অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ যদি ঈদের আগে বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারাও একই পথে হাঁটবে। তবে মাউশি কোনো উদ্যোগ না নিলে তারাও আলাদা করে পদক্ষেপ নেবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদের আগে মে মাসের বেতন ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্রুত ছাড়ের দাবি ওঠে। কারণ অধিকাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী মাসিক বেতনের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল। ঈদ সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের কেনাকাটা, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সময়মতো বেতন পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবারও বেতন অনিশ্চয়তার খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষা অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
Leave a Reply