নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে সরকারি পেনশনভোগীদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের পেনশনহারেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীরা।
জানা গেছে, বর্তমানে যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এই শ্রেণির পেনশনভোগীরা শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধি পেতে পারেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া যেসব পেনশনভোগী বর্তমানে মাসে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুধু পেনশনহার বৃদ্ধি নয়, বয়স্ক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আলাদা চিকিৎসা ভাতারও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা মাসিক ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন। আর যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে, তাদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনধারীদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্গঠন নিয়েও কাজ চলছে। বিশেষ করে বেশি বেতনভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া ভাতা তুলনামূলক কম হারে বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এদিকে আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে এবং কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা ইতোমধ্যে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আগামী জাতীয় বাজেটেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল চালু হলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি লাখো পেনশনভোগীও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন।
Leave a Reply