বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতির খবর দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশোধিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সেটি মাউশির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বদলি প্রক্রিয়া চালুর পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, সংশোধিত নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যার আপডেটের জন্য টেলিটককে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সোমবার সেই চিঠির জবাব দিয়েছে টেলিটক। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত।
মাউশির সূত্র জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকেই মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় ফাইল উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম চালু করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে মাউশি আনুষ্ঠানিকভাবে টেলিটককে সফটওয়্যার আপডেটের চিঠি পাঠিয়েছিল। পরে সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির সংশোধিত নীতিমালা জারি করে। নতুন নীতিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না করলে পুনরায় বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
এছাড়া মাউশি নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। সেই শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে। প্রতি বছর সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক প্রথমে নিজের জেলার শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার শূন্যপদে আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থল জেলাতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যদি সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বদলি কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হলে দীর্ঘদিনের জটিলতা কমবে এবং শিক্ষকদের ভোগান্তিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও পারিবারিক কারণে বদলি প্রত্যাশীদের জন্য এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply