বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলির সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হলেও এখনো মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ফলে বদলি কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার জটিলতার কারণে পুরো প্রক্রিয়া আটকে আছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বদলি কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। তবে সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকদের বদলি নিয়ে কাজ চলছে। তবে কিছুটা দেরি হয়ে গেল। এটা হয়েছে কারণ সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়নি। সফটওয়্যার প্রস্তুত হতে হয়তো আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর বদলি কার্যক্রম চালু হবে।”
জানা গেছে, গত ১০ মে সংশোধিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করার জন্য টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড কে চিঠি পাঠায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি টেলিটক। মাউশি সূত্রে জানা যায়, নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়ার পরই মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে বদলির আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করে। নতুন নীতিমালায় বদলির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেই কেবল পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা বা চাহিদা সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সংশোধিত নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সবস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান অথবা একই বিষয়ের শিক্ষক—সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে তার চাকরির আবেদনে উল্লেখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নিজ জেলায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো শূন্যপদ না থাকলে তিনি নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলার বিদ্যমান শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলাতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক প্রথম যোগদানের পর চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ করলে তবেই বদলির আবেদন করার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এর আগে এই সংশোধিত নীতিমালাটি অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালাটি জারির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোডের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
Leave a Reply