এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ঈদ বোনাস নিয়ে অবশেষে সুখবর এসেছে। শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ঈদ বোনাস সংক্রান্ত সাবমিশন সম্পন্ন করেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফাইল ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে যে কোনো দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঈদ বোনাসের টাকা পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে গতকাল শুক্রবার মাউশির ইআইএমএসসেলে যোগাযোগ করলে ইআইএমএসসেলের প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, এবার ঈদকে সামনে রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে বোনাস ছাড় করার জন্য শিক্ষা প্রশাসন, মাউশি এবং মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান বোনাসের বিল ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে সাবমিট করেছে, তাদের ফাইল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রসেস করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিশেষ করে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ঈদের আগে বোনাস পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ সরকারি চাকরিজীবীরা তুলনামূলক দ্রুত বেতন-বোনাস পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রায়ই প্রশাসনিক জটিলতা ও বিল সাবমিটে দেরির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সাবমিট সম্পন্ন করায় দ্রুত অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মাউশির ইআইএমএস সেল হতে জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান ১৩ মে রাত ১২টার আগে সাবমিশন সম্পন্ন করেছে তাদের ফাইল যাচাই শেষে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও চেক ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। সাধারণত ফাইল অনুমোদনের পর কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই অর্থ ছাড় হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার, বুধবার অথবা বৃহস্পতিবারের মধ্যে বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মাউশির ইআইএমএস সেল হতে আরও জানানো হয় যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবমিট করতে পারেনি তাদের জন্যও আরেকটি সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত উৎসব ভাতার বিল সাবমিটের সুযোগ থাকবে। তবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ঈদের আগে নয়, বরং ঈদের পর বোনাসের টাকা পাবেন। ফলে যারা এখনো সাবমিট করতে পারেননি তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, সময়মতো বোনাস পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। ঈদের আগে বোনাস হাতে পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষক এখনো শুধুমাত্র বেতন ও উৎসব ভাতার উপর নির্ভরশীল। তাই ঈদের আগে বোনাস পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
এদিকে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিল সাবমিটে কোনো ধরনের ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে ফাইল আটকে যেতে পারে। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে সাবমিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য ও এমপিও সংক্রান্ত ডাটা ঠিক আছে কি না সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় করা হলে এ ধরনের জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন এবং প্রশাসনিক চাপও কমবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবমিট সম্পন্ন করা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর। এখন সবাই তাকিয়ে আছেন আগামী সপ্তাহের দিকে, কখন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঈদ বোনাসের টাকা জমা হয়। আর যারা এখনো সাবমিট করতে পারেননি, তাদের জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে শনিবার পর্যন্ত সময় থাকছে। তবে ঈদের আগে বোনাস পেতে হলে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময় মেনে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিকল্প নেই।
Leave a Reply