এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন উৎসব ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে একটি আর্থিক প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের জন্য মোট ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৯০৬ টাকার এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সংক্রান্ত তথ্যগত ত্রুটি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব বেতন-ভাতা সময়মতো প্রদান করা সম্ভব হয়নি, ফলে তা বকেয়া হিসেবে জমে ছিল। এখন প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ একযোগে পেয়ে যাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের আংশিক লট-৩ এর আওতায় মোট ১ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য ২ কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকার বেতন প্রদানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ের ১ হাজার ১৩২ জন এবং কলেজ পর্যায়ের ৩৪৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একই মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উৎসব ভাতা বাবদ আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৪ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ২ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী পাবেন। এদের মধ্যে স্কুলের ১ হাজার ৬৫৯ জন এবং কলেজের ৭২৯ জন রয়েছেন।
পরবর্তী মাস এপ্রিলের আংশিক লট-২ এর অধীনে ১ হাজার ৪৮১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ১৫৯ টাকার বকেয়া বেতন ছাড়ের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এখানে স্কুলের ১ হাজার ১৩১ জন এবং কলেজের ৩৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একই সময়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা হিসেবে ৯৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২ টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ভাতা পাবেন মোট ২ হাজার ৭৫১ জন শিক্ষক-কর্মচারী, যাদের মধ্যে স্কুলের ১ হাজার ৯৫৩ জন এবং কলেজের ৭৯৮ জন রয়েছেন।
মে মাসে ১ হাজার ৭২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯১ টাকার বেতন ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরের মাস জুনে ১ হাজার ২১ জনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার ২১৭ টাকার বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই মাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতিরিক্ত উৎসব ভাতা হিসেবে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত।
সবশেষে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের আংশিক লট-২ এর অধীনে ১ হাজার ৩১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকার নিট বেতন ছাড়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বকেয়া থাকা বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক জটিলতা অনেকটাই নিরসন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
Leave a Reply