নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আসন্ন জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন কি না।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন না। যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সম্পূর্ণভাবে সরকার বহন করে না, বরং সরকার তাদের একটি নির্দিষ্ট অংশ অনুদান হিসেবে প্রদান করে থাকে, তবুও নতুন পে-স্কেলের আওতায় তাদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনাও করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নবম পে-স্কেলের সুবিধা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদিও সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো বেতন দেয় না, তবে তারা যে অংশ সরকার থেকে পেয়ে থাকেন, সেই অংশের ভিত্তিতেই পে-স্কেলের সুবিধা তারা পাবেন।
অন্যদিকে, নবম পে-স্কেল প্রণয়নের জন্য গঠিত পে-কমিশন মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের পথে না গিয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এখন বিবেচনায় রয়েছে।
সোমবার (৪ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন একবারে না করে তিন ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই মূল বেতনে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি আনার চিন্তা রয়েছে। তবে এই ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি সরাসরি পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নয়। বরং কমিশন যে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটিকে কমিয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে, এবং সেই নির্ধারিত অংশের ওপর ভিত্তি করেই প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত এই পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কঠিন। তাই বাস্তবতার নিরিখে মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
Leave a Reply