২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের প্রায় এক যুগের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সচিব পর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ জমা দিয়েছে। কমিটির মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, একবারে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ কারণে তারা নতুন পে-স্কেলটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে কর্মরতদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিকভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় সচিব কমিটির ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’ প্রস্তাবটিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে একদিকে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশাও পূরণ করা যাবে।
Leave a Reply