২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সংগঠিত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বড় ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হবে, যেখানে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
বার্তায় বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। কিন্তু সরকারি নিম্নবেতনভুক্ত কর্মচারীরা স্বল্প আয়ে কীভাবে এই বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা দেয়নি। প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি—যেখানে এই সময়ে অন্তত দুটি পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে একটি পে-স্কেলও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
এছাড়া বার্তায় উল্লেখ করা হয়, অনেকেই যুক্তি দেন যে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। কিন্তু সংগঠনটির দাবি, গত ১১ বছরে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াই দ্রব্যমূল্য বেড়েছে—তাহলে এই বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ কী, সেটি যারা এমন যুক্তি দেন তারা হয়তো বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারেননি।
সংগঠনটি আরও জানায়, ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে মোট চারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে—দুইবার আওয়ামী লীগ সরকার, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমানে বিদ্যমান সরকার। কিন্তু এতগুলো সরকারের কোনোটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছে। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনায় এই শ্রেণির মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা রাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
সংগঠনটির আশঙ্কা, আসন্ন বাজেটে যদি নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না রাখা হয় এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই তারা সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে সংগঠনটি তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহাল, শতভাগ পেনশন উত্তোলনের সুবিধা বহাল রাখা এবং এসব দাবিকে দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
Leave a Reply